Achena Shohor/ Chinmoy Chakraborty

(3 customer reviews)

Original price was: ₹200.00.Current price is: ₹140.00.

সকল প্রেমিকের জীবনে এমন এক একটি সন্ধ্যা থাকে—যেখানে জমে থাকে অগণিত স্মৃতি, আড্ডার হাসি, নীরবতার গভীরতা আর হাত ধরে থাকার অমলিন মুহূর্ত। সেই অনুভূতিরই এক অনন্য রূপ খুঁজে পাওয়া যায় চন্দননগরের ফরাসি ঐতিহ্য ঘেরা পথে, যেখানে প্রেম যেন শহরের বাতাসে মিশে থাকে।
জনপ্রিয় লেখক চিন্ময় চক্রবর্তীর লেখা ‘অচেনা শহর’ ঠিক সেই আবহকেই অসাধারণভাবে তুলে ধরে। হঠাৎ দেখা হওয়া, অপ্রস্তুত হয়ে পড়া, অতীতের টান আর স্মৃতির ভেজা গন্ধ—সব মিলিয়ে ফরোসডাঙ্গা, চন্দননগরের নিস্তব্ধ গলি ও নদীর ধারে প্রেম যেন আবার নতুন করে বেঁচে ওঠে এই বইয়ের পাতায়।
এ শুধু একটি গল্প নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তদের ফিরে পাওয়ার এক আবেগময় যাত্রা—যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে একেকটি স্পর্শ, একেকটি না বলা কথা।

সকল প্রেমিকের জীবনে এমন এক একটি সন্ধ্যা থাকে—যেখানে জমে থাকে অগণিত স্মৃতি, আড্ডার হাসি, নীরবতার গভীরতা আর হাত ধরে থাকার অমলিন মুহূর্ত। সেই অনুভূতিরই এক অনন্য রূপ খুঁজে পাওয়া যায় চন্দননগরের ফরাসি ঐতিহ্য ঘেরা পথে, যেখানে প্রেম যেন শহরের বাতাসে মিশে থাকে।
জনপ্রিয় লেখক চিন্ময় চক্রবর্তীর লেখা ‘অচেনা শহর’ ঠিক সেই আবহকেই অসাধারণভাবে তুলে ধরে। হঠাৎ দেখা হওয়া, অপ্রস্তুত হয়ে পড়া, অতীতের টান আর স্মৃতির ভেজা গন্ধ—সব মিলিয়ে ফরোসডাঙ্গা, চন্দননগরের নিস্তব্ধ গলি ও নদীর ধারে প্রেম যেন আবার নতুন করে বেঁচে ওঠে এই বইয়ের পাতায়।
এ শুধু একটি গল্প নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তদের ফিরে পাওয়ার এক আবেগময় যাত্রা—যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে একেকটি স্পর্শ, একেকটি না বলা কথা।

3 reviews for Achena Shohor/ Chinmoy Chakraborty
  1. Paulami Mitra (verified owner)

    *’ওচেনা শহর*

    আজকের সমাজে ‘ওচেনা শহর’ শব্দটা বড় প্রাসঙ্গিক। পল্লিগ্রামের সৌন্দর্য যখন হারিয়ে যায়, যখন রামধনুর রং ভেঙে আকাশে বৃষ্টি নামে, যখন বন্ধুত্বের বিন্দুটা সিন্ধুনীলের মতো বিশাল হয়ে যায়, তখন প্রেম কবিতা থেকে গদ্য হয়ে ওঠে।

    কবি হিসেবে যাঁকে চিনেছি, তাঁর প্রথম গদ্য অনেক না বলা কথা বলে গেছে। চিন্ময় চক্রবর্তীকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার মতো বইপোকাদের রসদ তো নতুন গল্প, নতুন কবিতাই।

    আমি চন্দনগরের মেয়ে। ছোটবেলায় আমাদের শহরটাকে যেভাবে দেখেছি, আজ সময় তাকে বদলে দিয়েছে। এই বইটিতে লেখক তাঁর ছেলেবেলা থেকে বড়বেলার গল্প নতুন শব্দকোষে চিহ্নিত করেছেন।

    নীল আর শাশ্বতী, যারা একটি বিদেশি ভাষার টানে একে অপরের বন্ধু হয়ে উঠেছিল, তাদের হঠাৎ দেখা যেন সময়কে পিছনে টেনে নিয়ে গেছে। নীলের ব্যস্ত ফেরিওয়ালার জীবন, বিষ পান করে নীলকণ্ঠ ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠা, স্ত্রী মিলির সমান্তরাল পথের পথিক হওয়া – কোথাও যেন জীবনের বৃত্ত নতুন রঙে আঁকা।

    চন্দনগর আলোর শহর। ছোট্ট টুনি বাল্বের Modern LED হয়ে ওঠার ইতিকথা যেন বলে যায়, পরিবর্তন ক্ষণস্থায়ী, কারণ change is the only constant। লেখকের রসায়নের নিরস মন্ত্রগুলো বোধ হয় খুব আত্মস্থ, তাই সাবলীলভাবে দর্শনভিত্তিক একটি প্রেমের গল্প পাঠকের ঝুলিতে দিয়ে দেন। কবিতা থেকে গদ্যের যাত্রা সহজ কথায় মানুষের কথাই বলে যায়।

    লেখক কখনো বিজ্ঞানকে অক্ষর দিয়ে সাজিয়ে বাক্য রচনা করেছেন, আবার কখনো শাশ্বতীর চরিত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মেয়ের ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার কাহিনি লিখেছেন। তার সাথে দ্বীপের মাঝে একা হওয়ার অনুভূতি, কখনো বা Royal Enfield-কে নৌকা বানিয়ে ভাসিয়েছেন তাঁর প্রিয় শহর চন্দনগরকে। সেলসের ক্লান্ত পথিক যখন জানলা দিয়ে সেই তিনটে তালগাছের পাতা নড়া দেখে, তখন মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের কথা। তাঁর শান্তিনিকেতনের সেই দুটো তালগাছ। কখনো বা মাধবীলতার সাথে ভেসে এক হয়েছে William Wordsworth-এর Daffodil। অদ্ভুত মেলানকলি।

    একটি মেয়ের ফেমিনিজম সাপোর্ট না করার গল্প, একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের গল্প। বন্ধুত্বের একটাই ভাষা, সেটা হল ভালোবাসা। বাইকে চেপে চন্দনগরের রাত কেমন লাগে , তিনি পথ শেষ করতেই চাননি। সন্ধে থেকে রাত, রাতের হিমেল বাতাসে আলোচনার গল্প, লাইটপোস্টের গল্প।

    শেষে একটা কথাই বলি, দার্শনিক রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’।

    চোখের জলে ভেজা বালিশগুলো বিবর্ণ হয়, তবু শাশ্বতীটা বেঁচে থাকে, নীল দা-রা-ও পাশে থাকে দূরে থেকেও। কারণ ঈশ্বর চেতনা আর ধর্মের এক বিশাল ফারাক। তাই লেখক হয়তো পরিশেষে আবারও একজন কবি হয়ে বলেছেন, ‘আর একটু আনন্দ’।

    জীবনের কালো আঁধার কিন্তু একদিন চলে যায়। নতুন সূর্যে পৃথিবী আবার নতুন রূপ পায়। তবু কিছু সম্পর্ক বেঁচে থাকে সবার আড়ালে। বন্ধুর কোনো লিঙ্গ হয় না। বন্ধুর কোনো সংজ্ঞা হয় না। বন্ধু মানে মিত্র, সেই বন্ধুই হয় ঈশ্বর। মানুষ হয়ে বাঁচার মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি বড় কাম্য, কারণ তাঁর গন্ধ সোঁদা মাটির মাতাল করা উচ্ছ্বাসে, আর শহরের ইতিকথায় এক অকথিত গল্প, যা বোঝার মতো ক্ষমতা এই সমাজের হয় না। তাই শেষ আলিঙ্গন বেঁচে থাকুক পবিত্র বন্ধনে।

    প্রেমের গল্প লেখা থাকুক ওই সবুজ বেঞ্চগুলোতে, ওই সরু গলি আর সাইকেলের গতিতে।

    লেখকের প্রত্যেকটা লাইন আমি বারবার পড়েছি। আশা রাখি তাঁর কলম চলবে, আমার মতো Bookworm-দের ঝুলিতে জুটবে আরও গল্প।

    অনেক ভালোবাসা *Heyali Publication*-এর সব কর্মীকে, যারা গড়ে তুলেছে নতুন দিনের ছোট গল্প লাল নোটবুকে।

    *ইতি*
    ড. পৌলমী মিত্র
    চন্দনগর, হুগলি, ইন্ডিয়া
    ১২ই মে, ০১.৪৩ am IST

  2. Paulami Mitra (verified owner)

    *’ওচেনা শহর’ – একটি পাঠ-প্রতিক্রিয়া*

    আজকের সমাজে ‘ওচেনা শহর’ শব্দটা বড় প্রাসঙ্গিক। পল্লিগ্রামের সৌন্দর্য যখন হারিয়ে যায়, যখন রামধনুর রং ভেঙে আকাশে বৃষ্টি নামে, যখন বন্ধুত্বের বিন্দুটা সিন্ধুনীলের মতো বিশাল হয়ে যায়, তখন প্রেম কবিতা থেকে গদ্য হয়ে ওঠে।

    কবি হিসেবে যাঁকে চিনেছি, তাঁর প্রথম গদ্য অনেক না বলা কথা বলে গেছে। চিন্ময় চক্রবর্তীকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার মতো বইপোকাদের রসদ তো নতুন গল্প, নতুন কবিতাই।

    আমি চন্দনগরের মেয়ে। ছোটবেলায় আমাদের শহরটাকে যেভাবে দেখেছি, আজ সময় তাকে বদলে দিয়েছে। এই বইটিতে লেখক তাঁর ছেলেবেলা থেকে বড়বেলার গল্প নতুন শব্দকোষে চিহ্নিত করেছেন।

    নীল আর শাশ্বতী, যারা একটি বিদেশি ভাষার টানে একে অপরের বন্ধু হয়ে উঠেছিল, তাদের হঠাৎ দেখা যেন সময়কে পিছনে টেনে নিয়ে গেছে। নীলের ব্যস্ত ফেরিওয়ালার জীবন, বিষ পান করে নীলকণ্ঠ ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠা, স্ত্রী মিলির সমান্তরাল পথের পথিক হওয়া – কোথাও যেন জীবনের বৃত্ত নতুন রঙে আঁকা।

    চন্দনগর আলোর শহর। ছোট্ট টুনি বাল্বের Modern LED হয়ে ওঠার ইতিকথা যেন বলে যায়, পরিবর্তন ক্ষণস্থায়ী, কারণ change is the only constant। লেখকের রসায়নের নিরস মন্ত্রগুলো বোধ হয় খুব আত্মস্থ, তাই সাবলীলভাবে দর্শনভিত্তিক একটি প্রেমের গল্প পাঠকের ঝুলিতে দিয়ে দেন। কবিতা থেকে গদ্যের যাত্রা সহজ কথায় মানুষের কথাই বলে যায়।

    লেখক কখনো বিজ্ঞানকে অক্ষর দিয়ে সাজিয়ে বাক্য রচনা করেছেন, আবার কখনো শাশ্বতীর চরিত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মেয়ের ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার কাহিনি লিখেছেন। তার সাথে দ্বীপের মাঝে একা হওয়ার অনুভূতি, কখনো বা Royal Enfield-কে নৌকা বানিয়ে ভাসিয়েছেন তাঁর প্রিয় শহর চন্দনগরকে। সেলসের ক্লান্ত পথিক যখন জানলা দিয়ে সেই তিনটে তালগাছের পাতা নড়া দেখে, তখন মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের কথা। তাঁর শান্তিনিকেতনের সেই দুটো তালগাছ। কখনো বা মাধবীলতার সাথে ভেসে এক হয়েছে William Wordsworth-এর Daffodil। অদ্ভুত মেলানকলি।

    একটি মেয়ের ফেমিনিজম সাপোর্ট না করার গল্প, একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের গল্প। বন্ধুত্বের একটাই ভাষা, সেটা হল ভালোবাসা। বাইকে চেপে চন্দনগরের রাত কেমন লাগে , তিনি পথ শেষ করতেই চাননি। সন্ধে থেকে রাত, রাতের হিমেল বাতাসে আলোচনার গল্প, লাইটপোস্টের গল্প।

    শেষে একটা কথাই বলি, দার্শনিক রবীন্দ্রনাথের ভাষায় – ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’।

    চোখের জলে ভেজা বালিশগুলো বিবর্ণ হয়, তবু শাশ্বতীটা বেঁচে থাকে, নীল দা-রা-ও পাশে থাকে দূরে থেকেও। কারণ ঈশ্বর চেতনা আর ধর্মের এক বিশাল ফারাক। তাই লেখক হয়তো পরিশেষে আবারও একজন কবি হয়ে বলেছেন, ‘আর একটু আনন্দ’।

    জীবনের কালো আঁধার কিন্তু একদিন চলে যায়। নতুন সূর্যে পৃথিবী আবার নতুন রূপ পায়। তবু কিছু সম্পর্ক বেঁচে থাকে সবার আড়ালে। বন্ধুর কোনো লিঙ্গ হয় না। বন্ধুর কোনো সংজ্ঞা হয় না। বন্ধু মানে মিত্র, সেই বন্ধুই হয় ঈশ্বর। মানুষ হয়ে বাঁচার মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি বড় কাম্য, কারণ তাঁর গন্ধ সোঁদা মাটির মাতাল করা উচ্ছ্বাসে, আর শহরের ইতিকথায় এক অকথিত গল্প, যা বোঝার মতো ক্ষমতা এই সমাজের হয় না। তাই শেষ আলিঙ্গন বেঁচে থাকুক পবিত্র বন্ধনে।

    প্রেমের গল্প লেখা থাকুক ওই সবুজ বেঞ্চগুলোতে, ওই সরু গলি আর সাইকেলের গতিতে।

    লেখকের প্রত্যেকটা লাইন আমি বারবার পড়েছি। আশা রাখি তাঁর কলম চলবে, আমার মতো Bookworm-দের ঝুলিতে জুটবে আরও গল্প।

    অনেক ভালোবাসা *Heyali Publication*-এর সব কর্মীকে, যারা গড়ে তুলেছে নতুন দিনের ছোট গল্প লাল নোটবুকে।

    *ইতি*
    ড. পৌলমী মিত্র
    চন্দনগর, হুগলি, ইন্ডিয়া
    ১২ই মে, ০১.৪৩ am IST

  3. Chandrima Nag

    আমার ছোটবেলার বন্ধু চিন্ময় চক্রবর্তীর “অচেনা শহর “গল্প টা পড়ে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। আমারো এই শহরেই বেড়ে ওঠা, এখনো বাসিন্দা। এই চেনা শহর কিভাবে দিনে দিনে অচেনা হয়ে যাচ্ছে, আমাদের গৌরব স্ট্রান্ডের পরিবেশ, এখনকার তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তন এসব লক্ষ্য করলেও এতো সুন্দর করে লিখতে পারবো না। ৩৫ বছর পড়ে হঠাৎ দেখা হওয়া দুই পুরোনো বন্ধুর কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে লেখক যেভাবে তাদের কিশোর বয়সের বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার সাথে এই প্রজন্মের ভালোবাসা, সমাজের পরিবর্তন রাজনৈতিক পরিবর্তন, জীবনের আদর্শ রক্ষা করার জন্য সততার প্রয়াস, কর্পোরেট জগতের কথা, মেয়েদের অবস্থান, তাদের সম্মান -অসম্মান নিয়ে মন খুলে গল্প করেছে, তাতে মানুষের মুখ আর মুখোশের তফাৎ ধরা পড়েছে। এই চিন্তা ভাবনা একটি সুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয় যা আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত মানসিকতার সাথে মেলে। এইসব কারণে আর নিজের শহরের কথা …. তাই পড়তে পড়তে নস্টালজিক হয়ে পড়ছিলাম। এক নিঃশ্বাসে পড়েছি, আবার পড়বো ভালোভাবে আরো বোঝার জন্য। এরকম মনে দাগ কাটা লেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবো। খুব ভালো থাকিস, ছোটবেলার বন্ধু। ❤️

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *